আশ্চর্য নয় সত্য......অপ্রিয় হলেও সত্য ঘটনা (ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ)
আনুমানিক পঠন সময় : ৯ মিনিট

লেখক : লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী
দেশ : India , শহর : New Delhi

কিশলয়তে প্রথম আত্মপ্রকাশ - ২০১৯ , সেপ্টেম্বর
প্রকাশিত ৯৩৫ টি লেখনী ৮৯ টি দেশ ব্যাপী ৪৩৫৩৯০ জন পড়েছেন।
আশ্চর্য নয় সত্য......অপ্রিয় হলেও সত্য ঘটনা (ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ)
তথ্য সংগ্রহ ও সম্পাদনা ও কলমে- লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

সুদর্শন এক পুরুষ, যাকে এক দেখায় যে কোনো নারী প্রেমে পড়তে বাধ্য। তবে রূপ যখন তার ফাঁদ, সেই ফাঁদে পরে অনেক নারীই হয়েছেন সর্বশান্ত। না, অর্থ সম্পত্তি খোয়াননি। খুইয়েছেন নিজের জীবনটাই। হ্যাঁ, এমনই এক সিরিয়াল কিলার টেড বান্ডির রূপের মোহে অনেক নারী তার সঙ্গে মিশেছেন।
তবে মানুষের মুখোশ পরা একজন পশু তাদের হত্যা করেছেন নির্মমভাবে। কখনও কখনও নারীদের হত্যার পর তাদের কিছু অঙ্গ প্রত্যঙ্গ খেয়েছেন তিনি।
১৯৭৪-১৯৭৮ সাল পর্যন্ত মাত্র চার বছরে ৩০ জনেরও বেশি নারীকে হত্যা করেছেন এই সিরিয়াল কিলার। পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক সিরিয়াল কিলারের নাম আছে।
আমেরিকার কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার টেড বান্ডির জন্ম ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ নভেম্বর। আমেরিকার ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের বার্লিংটনে জন্ম নেন তিনি। জন্মের সময় নাম ছিল থিওডোর রবার্ট কোয়েল। তার মায়ের নাম ইলিনর লুইস কোয়েল। তবে তার বাবার আসল পরিচয় জানা যায় নি।
টেডের জন্ম সনদে লয়েড মার্শাল নামক বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এক সৈনিককে বাবা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
পরবর্তীতে তার মা দাবি করেন যে, জ্যাক ওর্থিংটন নামক এক নাবিকের সঙ্গে মিলনের ফলে থিওডোরের জন্ম। যদিও পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জানা যায় এই নামে নৌবাহিনীতে কেউ ছিলই না!

এমনকি থিওডোরের পরিবারের অনেকে সন্দেহ করত যে, তার বাবা আর কেউ না, তারই আপন নানা স্যামুয়েল কোয়েল! এমনই পিতৃপরিচয়হীন এক পরিবেশে নানা-নানির কাছে বড় হতে থাকে টেড। তবে টেডের মা জনি বান্ডি নামে এক ব্যক্তিতে পরে বিয়ে করেছিলেন। তার নামের পদবীই ব্যবহার করেন টেডের নামের সঙ্গে।
ছোটবেলায় টেড আর ১০টি শিশুর মতো স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠছিলেন। নিয়মিত চার্চে যেতেন, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতেন। আমেরিকান বয় স্কাউটে যোগ দিয়েও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন তিনি। খেলাধুলায়ও টেড ছিলেন সমানভাবে দক্ষ। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে একটি ভালো চাকরির সন্ধানে তার মা চলে আসেন ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে।
সেখানে জনি বান্ডি নামক ম্যাডিগান আর্মি হাসপাতালের এক বাবুর্চিকে বিয়ে করেন তিনি। টেড তার মায়ের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নিজের নামেও ‘বান্ডি’ যোগ করে নেয়। সেই থেকে হয়ে ওঠেন টেড বান্ডি।
যখন টেড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন। তখনই তার সাধারণ জীবনে ভাঁটা পড়ে কিছুটা।
তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলানোর পর অবশেষে রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে ক্যাম্পেইন ওয়ার্কারের কাজ করতে থাকেন তিনি। ১৯৭১ সালে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দেন সিয়াটল রেপ ক্রাইসিস সেন্টারে। সেখানেও তার চপলতা, মোহনীয়তা, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব দিয়ে সবার মন জয় করে নেন তিনি।
তার সহকর্মীদের মতে, একজন দক্ষ আইনজীবী, রাজনীতিবিদ এমনকি সিনেটর হওয়ার যোগ্যতাও ছিল তার মাঝে। তবে টেড এসবের কিছুই হননি। তিনি হয়েছিলেন আমেরিকার সবচেয়ে ভয়ংকর সিরিয়াল কিলারদের একজন।
টেড উটাহের সল্টলেক সিটির ৫৬৫ ফার্স্ট আভিনিউতে থাকতেন। এই বাড়িতে থাকাকালীনই ১৯৭৪ প্রথম খুনটি করেন।
ওই বছর টেড মোট ৪ জন নারীকে ধর্ষণ ও হত্যা করেন। ১৯৭৫ সালে এই বাড়িতে থেকে তিনি মোট ২০টি হত্যা করেন। অন্যান্য সিরিয়াল কিলারের মতো টেডেরও হত্যার ধরণ ছিল আলাদা।
টেড বান্ডি ছিলেন প্রায় ছয় ফুট লম্বা। সেই সঙ্গে ঢেউ খেলানো বাদামি চুল, অদ্ভুত সুন্দর নীল চোখ তার ব্যক্তিত্বে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছিল।
তার মতো একজন সুপুরুষকে ফিরিয়ে দেয়াটা মেয়েদের জন্য ছিল বেশ কষ্টকর। আর এ সুযোগই কাজে লাগিয়েছিলেন টেড। নিজের ব্যক্তিত্বকে কাজে লাগিয়ে নারীদের নিজের শিকারে পরিণত করতেন তিনি। এভাবে তার শিকারে পরিণত হন শতাধিক তরুণী! টেড পার্ক, শপিং মল, বারের কাছাকাছি গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করতেন।
কোনো তরুণীকে পেলে তার কাছে গাড়িতে মালামাল তুলে দেয়ার জন্য সাহায্য চাইতেন ভাঙা হাতের অজুহাত দিয়ে। তরুণীটি যখনই সরল মনে তাকে সাহায্য করতে গাড়িতে উঠতো তখনই সে বান্ডির শিকারে পরিণত হতো।

একটু বেশি রাত হলেই মূলত শিকার ধরতে বেরিয়ে পরত টেড। কোনোভাবে গাড়িতে ওঠাতে পারলেই অজ্ঞান করে ফেলতেন।
এরপর বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ এরপর হত্যা করত। ১৯৭৪ সালের ১৪ই জুলাই তিনি সিয়াটলের লেক সামামিশ স্টেট পার্কে যান একই বেশভূষায় সজ্জিত হয়ে। সেদিন ওখানে প্রায় ৪০ হাজারের মতো মানুষ সাঁতার কাটা এবং সূর্যস্নানে মগ্ন ছিল। এমনই এক পরিবেশে বান্ডি ২২ বছর বয়সী জ্যানিস গ্রাহামের কাছে সাহায্য চান।
তিনি জ্যানিসকে অনুরোধ তার গাড়িতে নৌকাটা তুলে দেয়ার ব্যাপারে একটু হাত লাগাতে। বান্ডির অবস্থা দেখে জ্যানিসের মায়া হয়। সেই সঙ্গে বান্ডির আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব তো আছেই। তাই তিনি রাজি হয়ে যান। তবে গাড়ির কাছে এসে জ্যানিস আর কোনো নৌকা দেখতে পান না।
এতে তিনি আশ্চর্য হলে বান্ডি বলেন যে, নৌকাটা পাহাড়ের উপরেই তার এক আত্মীয়ের বাসায় আছে। এমন কথায় জ্যানিসের সন্দেহ হয়। তিনি তাই স্বামীর সঙ্গে দেখা করার অজুহাত দিয়ে সেখান থেকে সরে যান।
জ্যানিসই পরে পুলিশের কাছে বান্ডির সঠিক বর্ণনা দিতে সক্ষম হন। একজন শিকারকে হারিয়ে বান্ডি কিন্তু দমে যান নি।
সেদিনই ওই এলাকা থেকে জ্যানিস অট (২৩) এবং ডেনিস নাসলুন্ড (১৮) নামের দুই তরুণী নিখোঁজ হন। দু’মাস পর তাদের মৃতদেহ পাওয়া যায়। সেগুলো ছিল নগ্ন। দেখে বোঝাই যাচ্ছিলো যে ধর্ষণের পর তাদের খুন করা হয়েছে।

১৯৭৫ সালে প্রথম পুলিশের হাতে ধরা পড়েন টেড বান্ডি।
হাইওয়ে পুলিশ রবার্ট হেওয়ার্ডের সামনে দিয়ে বান্ডি দ্রুত বেগে লাইট বন্ধ করে গাড়ি চালিয়ে গেলে তিনি তাকে ধাওয়া করেন। ১২ ব্লক পরে বান্ডি গাড়ি থামাতে বাধ্য হন। হেওয়ার্ড তার গাড়ি সার্চ করে স্কি মাস্ক, গ্লাভস, ক্রোবার, হ্যান্ডকাফ এবং এরকম আরো কিছু জিনিস পান যাতে তাকে তিনি ডাকাত বলে সন্দেহ করেন।
পরে তার বাসা সার্চ করেও সন্দেহজনক কিছু না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এবার ভাগ্য আসলেই বেশ ভালো ছিল বান্ডির। কারণ পাশেই একটি রুমেই তিনি তার হাতে খুন হওয়া তরুণীদের ছবি লুকিয়ে রেখেছিলেন।
তবে এরপর থেকেই গোয়েন্দাদের নিয়মিত নজরদারিতে থাকেন তিনি।
গোয়েন্দারা তার খুন সংঘটিত হওয়া এলাকাবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনীর যে বর্ণনা পেতেন তা অনেকটাই মিলে যাচ্ছিল বান্ডির সঙ্গে। ফলে নিয়মিত বিভিন্ন কারণে আদালতে হাজিরা দেওয়া বা পুলিশের জেরার মুখোমুখি হতে থাকেন তিনি। অবশেষে ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুন থেকে তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
সেখানে তিনি বড়দিনের অনুষ্ঠানের দিন পালিয়ে যান জেল থেকে। তবে এর আগে টেড বেশ কয়েকবার জেল পালানোর চেষ্টা করেছেন। একবার দুইতলার উপর থেকে পরে গিয়ে পা মচকে গিয়েছিল।
শিকাগো থেকে মিশিগান, আটলান্টা হয়ে অবশেষে জানুয়ারির ৮ তারিখে ফ্লোরিডার টালাহাসিতে ক্রিস হ্যাজেন ছদ্মনামে একটি রুম ভাড়া নেন টেড বান্ডি।
তার এই নতুন আবাসস্থলটি ফ্লোরিডা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র দেড় ব্লক দূরে অবস্থিত ছিল। এরপর থেকে নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে, নানা কর্মকান্ডে ক্রিস হ্যাজেন নামক এক লোককে দেখা যেতে থাকে। তবে কেউই জানতো না এই হ্যাজেনের আড়ালে লুকনো বান্ডির কথা।
এরপরই এলো সেই বিভীষিকাময় রাত।
সেদিন রাত প্রায় তিনটার দিকে কম্বিনেশন লক খুলে কাই ওমেগা সরোরিটি হাউজে প্রবেশ করলেন সিস্টার নিটা নিয়ারি। বেশ রাত হয়ে যাওয়ায় নিঃশব্দে হাঁটছিলেন তিনি। হঠাৎ করে ওপর তলা থেকে বেশ জোরে কারো দৌড়ানোর শব্দ পেলেন তিনি। এর পরপরই তার সামনে দিয়ে পালিয়ে যান বান্ডি। তার মাথায় ছিল কালো টুপি, গায়ে কালো কোট আর হাতে কাঠের তৈরি শক্ত কোনো জিনিস।

নিয়ারি ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি তার রুমমেট ন্যান্সি ডাউডিকে জাগিয়ে তোলেন। এরপর দু’জনে মিলে হাউজের প্রেসিডেন্ট জ্যাকি ম্যাকগিলকে ঘুম থেকে ওঠান। হঠাৎ করে সরোরিটি হাউজেরই আরেক সিস্টার কারেন চ্যান্ডলার টলতে টলতে তার রুম থেকে বেরিয়ে আসেন। তাকে দেখে ভয়ে পেছনে সরে আসেন তিনজন। কারণ চ্যান্ডলারের পুরো মাথা ভেসে যাচ্ছিলো রক্তে।
তারা দৌড়ে গেলেন তাকে সাহায্য করতে।
চ্যান্ডলারের রুমে প্রবেশ করে তারা আবারো ধাক্কা খেলেন। সেই রুমেরই আরেক বাসিন্দা ক্যাথি ক্লেইনার হতবুদ্ধি হয়ে বসে আছেন খাটের কোণায়। চ্যান্ডলারের মতো তারও সারা মাথা ভেসে যাচ্ছে রক্তে। তাড়াতাড়ি ডাকা হলো পুলিশকে। পুলিশ এসে সবগুলো রুম সার্চ করলো।
তবে একটি রুমে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া গেলো না। অফিসাররা রুমে ঢুকে সেই রুমের বাসিন্দা লিসা লেভিকে পেলেন শরীর উপুড় করে চাদর দিয়ে মোড়ানো অবস্থায়। তার সারা শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছিলো। একজন অফিসার তার গায়ের চাদর সরাতেই দেখা গেলো তার নিতম্বে কেউ যেন কামড়ে দিয়েছে। যদিও লেভি তখন আর বেঁচে ছিলেন না।
হঠাৎ করে কেউ কেউ বলাবলি করতে থাকলেন হাউজের আরেক সিস্টার মার্গারেট বোম্যানকে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ এবার মার্গারেটের রুমে প্রবেশ করলো। পুরো রুমে তখন রক্ত, দেয়াল জুড়ে ছিল রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। মার্গারেটকে এতটাই নির্মমভাবে মারা হয়েছিল যে দেখে মনে হচ্ছিলো তার শিরশ্ছেদ করা হয়েছে।

ক্লেইনার এবং চ্যান্ডলার বেঁচে যান। তবে আজীবন মানসিক এবং শারীরিকভাবে তাদেরকে সেই রাতের স্মৃতি বয়ে বেড়াতে হয়।
একদিকে সময় কেটে যেতে লাগলো। বান্ডিকেও হন্যে হয়ে খুঁজতে লাগলো পুলিশ। এরই মধ্যে বান্ডি আরো এক তরুণীকে হত্যা করেছেন।
১৯৭৮ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি রাতে অফিসার ডেভিড লী পেনসাকোলার সার্ভেন্টেস স্ট্রিটে গাড়ি নিয়ে টহল দিচ্ছিলেন। হঠাৎ করে একটি রেস্টুরেন্টের পেছনে দাঁড় করানো হলুদ রঙের একটি ভক্সওয়াগন দেখতে পান তিনি। রেস্টুরেন্টটি ততক্ষণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অফিসারের তাই সন্দেহ হলো। তিনি গাড়ি নিয়ে ভক্সওয়াগনটিকে অতিক্রম করে গেলেন।
তবে রিয়ারভিউ মিররে নজর রাখতে থাকলেন গাড়িটির ওপর। বান্ডিও মনে হয় বুঝতে পেরেছিলেন ব্যাপারটি। তাই তিনি গাড়ি নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়তে চাইলেন।
এরই মধ্যে বান্ডির গাড়ির নাম্বার পুলিশ স্টেশনে জানিয়ে লী জানতে পেরেছিলেন যে, গাড়িটি চুরি করা। তাই লীও ভক্সওয়াগনটিকে অনুসরণ করতে লাগলেন।
দ্রুত বেগে গাড়ি চালিয়ে টেড বান্ডি পুলিশ অফিসার ডেভিড লীর হাত থেকে মুক্তি পেতে চাইলেন, কিন্তু পারলেন না। একটু পরই বান্ডি তার গাড়িটি থামাতে বাধ্য হন। কোমরে থাকা পিস্তলটি হাতে নিয়ে খুব সাবধানে বান্ডির দিকে এগোতে থাকলেন লী। বান্ডি তার স্বভাবসুলভ ধূর্ততা দিয়ে লীর চোখ ফাঁকি দিতে চাইলেন, কিন্তু পারলেন না।

এরপর হঠাৎ করেই তিনি লীকে আক্রমণ করে পালাতে চাইলেন। তবে লীর দক্ষতায় সেটি আর সম্ভব হলো না। ধরা পড়লেন টেড বান্ডি, তাকে নিয়ে আসা হলো পুলিশ স্টেশনে। বান্ডির ছদ্মনামের কারণে পুলিশ আসলে তখনো জানতেই পারেনি কত বড় এক মাছ তাদের জালে সেদিন ধরা পড়েছে!
এরপরের ঘটনা দ্রুততার সঙ্গে এগোতে লাগলো।
বান্ডির বিরুদ্ধে যেসব খুনের অভিযোগ আসতে লাগলো; তার প্রায় সবই প্রমাণিত হচ্ছিলো। তার মৃত্যুদণ্ডদেশ নিশ্চিত করেন বিচারপতি এডওয়ার্ড ডি কাওয়ার্ট। এত দোষে দোষী হওয়া সত্বেও বান্ডির কাছে সুন্দরী তরুণীদের থেকে নিয়মিত চিঠি আসতো। সেখানে তারা এই সিরিয়াল কিলারকে সাপোর্ট দিতেন, এমনকি তাকে বিয়ের প্রস্তাবও দিতেন।
কেউ কেউ তো বিশ্বাসই করতে পারতেন না যে, তার মতো একজন সুপুরুষের পক্ষে এসব করা সম্ভব!
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, টেড বান্ডি শুধু মাঝখানে সিঁথি করা ঘন চুলের নারীদেরকেই বেছে নিতেন। তবে কেন? এর কোনো উত্তর মেলাতে পারেননি কেউই। টেডও এর ব্যাপারে কিছু বলেননি।

ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন, ওয়াশিংটন, আইডাহো, উটাহ, কলোরাডো এবং ফ্লোরিডায় ৩০ জন নারীকে হত্যার কথা গ্রেফতারের পর স্বীকার করেছিলেন। তবে মাত্র ৩টি হত্যার জন্য দোষী সাবস্ত্য করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। তবে অনেকের ধারণা টেড ১০০ এর বেশি নারীকে হত্যা করেছে। ১৯৮৬ সালের ৪ মার্চ টেডের মৃত্যুদণ্ডের দিন ধার্য করা হয়।
তবে বিভিন্ন কারণে সেই তারিখ পরিবর্তন হয়ে হয় ১৯৮৯ সালের ২৪ জানুয়ারি। এর আগের বছর ফ্লোরিডার আদালত এই দিন ধার্য করে। ১৯৮৯ সালের ২৪ জানুয়ারি সকাল ৭টা বেজে ৬ মিনিটে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তখন তার বয়স ৪২ বছর। মৃত্যুর আগে টেড শুধু একটি কথাই বলেছিলেন, আমি আমার পরিবার এবং বন্ধুদের ভালোবাসি।
টেডের মৃত্যুর পর ফ্লোরিডা শহরে আতশবাজি পুড়িয়ে সবাই আনন্দ উল্লাস করেছিল। মৃত্যু ভয় আর আতঙ্কে কাটানো জীবন থেকে মুক্তির আনন্দে বাইরে বেরিয়ে এসেছিল সবাই। টেডের জীবনের শেষ খাবার ম্যেনুতে ছিল ফ্লোরিডার স্টেক, ডিম, হ্যাশ ব্রাউন এবং টোস্ট। তবে টেড কিছুই খাননি। পুরো সময়টাই উদাসীন ছিলেন। টেডের অনুরোধেই তাকে সমাধিস্থ করা হয় ওয়াশিংটন স্টেটের ক্যাসকেড পাহাড়ে।
সেখানেই টেড তার হত্যা করা বেশিরভাগ তরুণীর লাশ ফেলেছিলেন। এখনও টেডের পরিবারের অনেকে বেঁচে আছেন। তবে কেউ টেডের আত্মীয় একথা স্বীকার করতে চান না। টেডের একটি মেয়েও ছিল। যার বয়স এখন ৩৪ বছর। তার আরো তিনজন ভাইবোনও ছিল। তবে এখন কে কোথায় আছে তা কেউ জানে না। তারাও সবার থেকে তাদের পরিচয় লুকিয়েই বেঁচে আছে সমাজে।

রচনাকাল : ২৪/৮/২০২১
© কিশলয় এবং লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

শেয়ার করুন    whatsapp fb-messanger fb-messanger



যেখান থেকে লেখাটি পড়া হয়েছে -


Canada : 4  Europe : 2  Germany : 1  India : 102  Japan : 1  Lithuania : 2  Romania : 5  Russian Federat : 3  Saudi Arabia : 12  Ukraine : 1  
United Kingdom : 7  United States : 114  Vietnam : 1  
যেখান থেকে লেখাটি পড়া হয়েছে -


Canada : 4  Europe : 2  Germany : 1  India : 102  
Japan : 1  Lithuania : 2  Romania : 5  Russian Federat : 3  
Saudi Arabia : 12  Ukraine : 1  United Kingdom : 7  United States : 114  
Vietnam : 1  
© কিশলয় এবং লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
আশ্চর্য নয় সত্য......অপ্রিয় হলেও সত্য ঘটনা (ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ) by Lakshman Bhandary is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License Based on a work at this website.

অতিথি সংখ্যা : ১১২৬০৮৯৭
  • প্রকাশিত অন্যান্য লেখনী