অঘ্রানে ধানের খেতে..... সোনা ধানের হাসি নবান্ন উত্সব -অনুগল্প (প্রথম পর্ব)
আনুমানিক পঠন সময় : ২ মিনিট

লেখক : লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী
দেশ : India , শহর : New Delhi

কিশলয়তে প্রথম আত্মপ্রকাশ - ২০১৯ , সেপ্টেম্বর
প্রকাশিত ৯৩৫ টি লেখনী ১০৪ টি দেশ ব্যাপী ৫২৩৩৮৮ জন পড়েছেন।
Lakshman Bhandary
অঘ্রানে ধানের খেতে..... সোনা ধানের হাসি
নবান্ন উত্সব -অনুগল্প (প্রথম পর্ব)
তথ্যসংগ্রহ ও কলমে- লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

কৃষক-কৃষাণীরা নবান্নের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে নবান্নে বাড়ির জামাইকে নিমন্ত্রণ করা হয়। মেয়েকেও বাপের বাড়িতে ডেকে আনা হয়। নবান্ন আর পিঠেপুলির উৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা হয় সবাই। তাই অগ্রহায়ণ এলেই সর্বত্র ধ্বনিত হয়, ‘আজ নতুন ধানে হবে রে নবান্ন সবার ঘরে ঘরে।’ কুয়াশায় আচ্ছন্ন চারদিক আর কৃষকের গোলায় উঠছে পাকা ধান। চিরায়ত বাংলার চিরচেনা রূপ এটি। কৃষকের মাঠে তখন সোনারঙা ধানের ছড়াছড়ি। কৃষক রাশি রাশি সোনার ধান কেটে নিয়ে আসে ঘরে।

ধান ভাঙার গান ভেসে বেড়ায় বাতাসে, ঢেঁকির তালে মুখর হয় বাড়ির আঙিনা। নতুন চালের ভাত আর নানা ব্যঞ্জনে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশে। তৈরি হয় নতুন চালের পিঠা, ক্ষীর-পায়েস। মুসলিম সমাজে মসজিদে শিন্নি দেওয়ার রেওয়াজও আছে, সনাতন সমাজের কৃষকের ঘরে ঘরে চলে পূজার আয়োজন।

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কবি মুকুন্দরাম তার ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যে অঘ্রাণের বন্দনা করেছেন। বলেছেন, গোলাঘর এ মাসে ধানে ভরপুর থাকতো। কিষাণ-কিষাণীরা মাততেন আনন্দ আয়োজনে। চলতো নিমন্ত্রণ আর নাইয়র নেয়ার ধুম। খেজুরের রস দিয়ে নতুন চালের পায়েস, ফিরনী আর নকশী পিঠা বানিয়ে পাঠানো হতো পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের কাছে। এ সময় পল্লী প্রাণ জেগে উঠতো নিশীথের নিদ্রা থেকে।

হিন্দু প্রথা অনুযায়ী, নবান্ন উৎসবে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাও পালন করতেন গাঁয়ের মানুষ। নতুন ধান উৎপাদনের সময় তারা দেবী অন্নপূর্ণার পূজা করতেন। ঘরে ধান এলে প্রয়াত পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে করতেন শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। সম্রাট আকবরের আমলে অগ্রহায়ণ মাস থেকে বাংলা বছরের গণনা করা হতো যা ‘ফসলী সাল’ হিসেবে পরিচিত ছিল।

সনাতন মাড়াই প্রথা এখন বিলুপ্তপ্রায়। ধান ভানা হয় না আর ঢেঁকিতে। গ্রাম প্রবেশ করেছে যন্ত্রযুগে। নতুন চাল দিয়ে রান্না করা ভাত, পায়েস কিংবা চালের গুঁড়োয় তৈরি পিঠা-পুলিও খাওয়া হয়ে ওঠে না সবার। সব কিছুই হয়ে গেছে প্যাকেটজাত।

তবুও কুয়াশাসিক্ত অগ্রহায়ণ আসে বাংলায়, নতুন ধানের গন্ধ ম-ম করে গ্রামের বাতাসে। নাগরিক জীবনে নতুন ধান বা চালের অস্তিত্ব না থাকলেও শেকড় সন্ধানী মানুষ চিরায়ত ঐতিহ্য সংরক্ষণে আয়োজন করে নবান্ন উৎসব। শহরের বিভিন্ন মিলনায়তনে, গাছতলা কিংবা মাঠে বসছে নবান্ন নিয়ে কথামালা আর নাচ-গানের আসর।

রচনাকাল : ১৭/১১/২০২০
© কিশলয় এবং লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

শেয়ার করুন    whatsapp fb-messanger fb-messanger



যেখান থেকে লেখাটি পড়া হয়েছে -


Australia : 1  Canada : 3  China : 11  Europe : 4  France : 4  Germany : 9  India : 160  Japan : 2  Lithuania : 1  Pakistan : 1  
Romania : 7  Russian Federat : 6  Saudi Arabia : 16  Sweden : 80  Ukraine : 4  United Kingdom : 10  United States : 140  Vietnam : 1  
যেখান থেকে লেখাটি পড়া হয়েছে -


Australia : 1  Canada : 3  China : 11  Europe : 4  
France : 4  Germany : 9  India : 160  Japan : 2  
Lithuania : 1  Pakistan : 1  Romania : 7  Russian Federat : 6  
Saudi Arabia : 16  Sweden : 80  Ukraine : 4  United Kingdom : 10  
United States : 140  Vietnam : 1  
© কিশলয় এবং লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
অঘ্রানে ধানের খেতে..... সোনা ধানের হাসি নবান্ন উত্সব -অনুগল্প (প্রথম পর্ব) by Lakshman Bhandary is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License Based on a work at this website.

অতিথি সংখ্যা : ১১৬১১৫৮৪
  • প্রকাশিত অন্যান্য লেখনী